মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় ভিজিএফের উপকারভোগীর তালিকা নিয়ে ইউপি সদস্যের ওপর হামলার সংবাদ প্রকাশ করায় দারিয়াপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান নেতৃত্বে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে । সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গোয়ালদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির শ্রীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বিকাশ বাছাড় ভিজিএফ কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত বিরোধ এবং ইউপি সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। এর জের ধরে রাতে গোয়ালদা বাজার এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দারিয়াপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিলীপ কুমার মজুমদার ৮০টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ পান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এর মধ্যে ৪০টি কার্ড ওয়ার্ড সভাপতির কাছে এবং কয়েকটি কার্ড স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার সকালে চর-গোয়ালদাহ এলাকায় ইউপি সদস্য দিলীপ কুমারের সঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাবুর বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ঐ ইউপি সদস্যকে বেধড়ক মারধর করে বিএনপি নেতা বাবু। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য দিলীপ কুমার শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেছেন।
সাংবাদিকের দায়ের করা ডায়েরির সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক বিকাশ বাছাড় বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রি করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন আকিদুল ইসলাম আখি (৪৮) মতিয়ার রহমান বাবু (৫৫) শ্যামল মণ্ডল (৫০)।
সকলের বাড়ি গোয়ালদহ, থানা শ্রীপুর, জেলা মাগুরা।
ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, সকালে ভিজিএফ চাল বিতরণ নিয়ে ইউপি সদস্য দিলীপ কুমার মজুমদারকে মারধরের ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে সংবাদ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম প্রদীপ তাকে ফোন করে গোয়ালদাহ বাজারে ফরমান খানের দোকানে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে অপেক্ষা করার সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্তরা এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। এ সময় তারা সংবাদটি মুছে না ফেললে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বলে ডায়েরিতে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহিন মিয়া জানান, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
