নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি
শেরপুর জেলার নকলা প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য, শেরপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য প্রথিতযশা সাংবাদিক, বিশিষ্ট কবি ও কলামিস্ট সর্বজন শ্রদ্ধেয় তালাত মাহমুদ-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে নকলা প্রেসক্লাব পরিবারের আয়োজনে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ মার্চ) বিকেলে প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মোশারফ হোসাইন-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার জসিম উদ্দিন মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দেলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী রাজন ও মো. নূর হোসেন, দফতর সম্পাদক মো. সেলিম রেজা, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-আমিন ও সহযোগী সদস্য হাসান মিয়া প্রমুখ।
বিগত শতাব্দীর আশির দশকের আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাংবাদিক, কবি-কলামিস্ট প্রয়াত তালাত মাহমুদ-এঁর কৃতকর্মের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বক্তারা জানান, তালাত মাহমুদ ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ আগস্ট শেরপুরের চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বাছুরআলগা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪ মার্চ, ২০২৪ তারিখে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি কবি সংঘ বাংলাদেশ-এর সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টের সহযোগী সম্পাদক, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবী সংগঠনের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শেরপুরের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা জগতে অপূরনীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর স্ত্রী আসমাউল হোসনা অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক, মেয়ে তামান্না মাহমুদ মনিষা স্বামী-সন্তানসহ কানাডায় বসবাস করছেন এবং ছেলে হোসেন তানসেন মাহমুদ ইলহাম সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
বক্তারা আরো জানান, প্রচণ্ড সাংগঠনিক কর্মক্ষমতার অধিকারী ও ক্ষুরধার লেখনীর আপোসহীন কলমসৈনিক তালাত মাহমুদ ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক পাশ করার পর একইসাথে এলএলবি ও ময়মনসিংহ আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়ন করেন। তার পিতা মনিরুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধের একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তালাত মাহমুদ জাতীয় লেখক কবি শিল্পী সংগঠন ‘লেকশি’ এবং ‘কবি সংঘ বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় সাড়াজাগানো ‘জিলবাংলা সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন। তার প্রথম গ্রন্থ ‘স্বর্গের দ্বারে মর্তের চিঠি’ ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। নীলকন্ঠ কবি তালাত মাহমুদ সাপ্তাহিক জামালপুর বার্তার প্রথম বার্তা সম্পাদক, দৈনিক দেশবাংলার সম্পাদনা পরিষদ সদস্য, আজকের বাংলাদেশের সহকারী সম্পাদক, সাপ্তাহিক সফিয়ার সম্পাদক (অর্পিত দায়িত্ব), বিলুপ্ত সাপ্তাহিক জনকন্ঠ’র প্রধান সহকারি সম্পাদক, দৈনিক ঢাকা রিপোর্ট-এর প্রধান সহকারী সম্পাদক, সাপ্তাহিক শেরপুরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহিক পূর্বকথা’র সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও প্রধান সম্পাদক, সাপ্তাহিক ঝিনাই-এর উপদেষ্টা সম্পাদক, পল্লীকন্ঠ প্রতিদিনেব সহযোগী সম্পাদকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ইত্তেফাক, ইনকিলাব, আজকের পত্রিকা, আজকের পত্রিকা, আজকের খবর, দৈনিক জাহান, সচেতনকন্ঠ, দশকাহনীয়া, কালের ডাক, পল্লীকন্ঠ প্রতিদিন, ভোরের আলো, শ্যামলবাংলা ২৪ ডটকম, শেরপুর টাইমস ডট কম, বাংলার কাগজ ও ভোরের আকাশসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার অসংখ্য লেখা প্রকাশিত হয়েছে; যা আজ শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘সাহিত্য দর্পণ’ (১৯৭৩-১৯৮৬) ও ‘আমরা তোমারই সন্তান’ (১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রকাশিত) সহ বেশ কয়েকটি সাময়িকী তিনি সম্পাদনা করে গেছেন বলে বক্তারা জানান।
এসময় নকলা প্রেসক্লাব, নকলা উপজেলা টিভি ফোরাম, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা নকলা উপজেলা শাখা, নকলা উপজেলা প্রেসক্লাব, অনলাইন জার্নালিস্ট ফোরাম ও নকলা ইয়ূথ রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
