গর্জনীয়া পশ্চিম জুমছড়িতে সোলার সেচ প্রকল্প এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ

সারাদেশ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

রামু উপজেলার গর্জনীয়া ইউনিয়নের পশ্চিম জুমছড়ি এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মরহুম রশিদ আহমদ সোলার সেচ প্রকল্পের ক্যাচম্যান্ট এরিয়ার ভেতরে তিনটি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্পের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযুক্ত আলী হোসেনের ছেলে এনাম উল্লাহ নিজ বাড়িতে একটি নলকূপ স্থাপন করে স্কিমের আওতাভুক্ত জমিতে পানি সরবরাহ করছেন, যা বিএডিসির সেচ আইন অনুযায়ী অবৈধ। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প এলাকার ভেতরে ব্যক্তিগতভাবে নলকূপ স্থাপন করে পানি সরবরাহ করায় সরকারি সেচ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হচ্ছে।

দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে সিরাজুল ইসলাম সেলিম (পিতা: মরহুম মোক্তার আহমদ)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তার প্রায় ২০ কানি জমি দীর্ঘ ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে নতুন বাজার সেচ বাঁধের মাধ্যমে চাষাবাদ হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে জমিটি সোলার সেচ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়। সম্প্রতি সেখানে আলাদা করে বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

তৃতীয় অভিযোগটি আজিজুল হক (পিতা: নুরুল হক)-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ আইনে খুঁটি থেকে ১৩০ ফুটের মধ্যে নলকূপ স্থাপনের বিধান থাকলেও তার প্রকৃত নলকূপটি প্রায় ৪৫০ ফুট দূরে অবস্থিত। তবে একটি ভুয়া (ফলস) নল বসিয়ে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সেচ স্কিমের এরিয়ার ভেতরে বিদ্যুৎ মিটার সংযোগের চেষ্টা চলছে। যে খতিয়ান দেখিয়ে মিটার সংযোগের আবেদন করা হয়েছে, সেটি প্রকৃত নলকূপ স্থানের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সেচ সুবিধাভোগীরা জানান, এভাবে একের পর এক অবৈধ সংযোগ দেওয়া হলে সরকারি সোলার সেচ প্রকল্পটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। এতে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিএডিসি কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধ না করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।